World Fast Computer

World Fast Computer – প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার কম্পিউটার যা ২০০০ বছরের ও বেশি পুরনো।

কম্পিউটার তো আমরা প্রায় সকলেই ব্যাবহার করে থাকি, কিন্তু আপনারা কি জানেন যে প্রাচীন যুগে ছিল কম্পিউটারের ব্যাবহার। কথাটি কিন্তু একেবারেই সত্যি প্রাচীন কালের কিছু এমন যন্ত্র পাওয়া গেছে যা বর্তমান সময়ের আধুনিক কম্পিউটারের (World Fast Computer) চেয়ে বেশী আধুনিক। বিশ্বাস হচ্ছে না?

তাহলে চলুন যেনে নেওয়া যাক পুরো বিষয়টির সম্পর্কে। আমাদের এই প্রতিবেদন আপনি অন্য সোর্ছ থেকেও যাচাই করে নিতে পারেন। তাই চলুন আর দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক পুরাতন কালের আধুনিক কম্পিউটারের কথা।

১৯০০ সালের এক গ্রীষ্মে, গ্রিসের সিমি দ্বীপের এক দল স্পঞ্জ সংগ্রহকারী ডুবুরি অ্যান্টিকিথেরা দ্বীপের কাছে সমুদ্রের ৪৫ মিটার গভীরে ডুবে থাকা এক প্রাচীন রোমান জাহাজের সন্ধান পান (World Fast Computer)।

আর সেই জাহাজের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার হয় বেশ কিছু দামি প্রত্নবস্তু বস্তু। যার মধ্যে ছিল ব্রোঞ্জ ও মার্বেল পাথরের মূর্তি, রঙিন পাত্র, কাচের সরঞ্জাম, গয়না, প্রাচীন মুদ্রা ইত্যাদি। তার মধ্যেই একটি জিনিস সকলকে অবাক করে দেয়। কারন সেই সঙ্গে পাওয়া যায় এক রহস্যময় বস্তু। সেটি যে ঠিক কী, তা সেই ডুবুরিরা বুঝতে পারেননি।

তৎকালীন প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং ইতিহাস চর্চাকারীরা জানান যে সেই জাহাজটি রোডস থেকে রোমের দিকে যাচ্ছিল এবং সম্ভবত এতে মালবোঝাই চুরি করা সামগ্রীগুলি ছিল, যা রোমানদের দ্বারা লুন্ঠিত। বিশেষজ্ঞেরা আরো অনুমান করেন, তৎকালীন রোমান সেনাপতি সুল্লা (১৩৮ – ৭৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) এই সামগ্রী গুলি লুঠ করে ইটালির দিকে পাঠাচ্ছিলেন (World Fast Computer) ।

তারা প্রথমে বুঝতেই পারেনি যে জল থেকে তুলে আনা সামগ্রীটি আসলে হল একটি যন্ত্র। তার পর তারা সেই বস্তুটি উদ্ধার করে একটি সংগ্রহশালায় সংরক্ষিত করেন।

১৯০২ সালে তৎকালীন এক প্রত্নতত্ত্ববিদ এই বস্তুটির মধ্যে একটি আকর্ষণীয় ভ্যালেরিয়াস স্টাইস লক্ষ্য করেন, যে বস্তুটির গায়ে একটি গিয়ার-হুইলের মত জিনিস রয়েছে। প্রথমে তারা ভেবেছিলেন, এই বস্তুটি হয়তো প্রাচীন কালের কোন ঘড়ি কিম্বা জ্যোতির্বিদ্যা সংক্রান্ত কোনও যন্ত্র (World Fast Computer)।

এরপর ১৯৫১ সালে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানের ইতিহাস বিশেষজ্ঞ ডেরেক জে ডি সোল্লা প্রাইস প্রত্নবস্তুটির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গবেষণা শুরু করেন। এবং দীর্ঘ ২০ বছর পর, ১৯৭১ সালে প্রাইস ও নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের বিশেষজ্ঞ শারাল্যাম্পোস কারাকালোস বস্তুটির এক্স রে এবং গামা রে প্রতিচ্ছবি তৈরি করেন। বস্তুটির ৮২টি অংশের এমন প্রতিচ্ছবি তৈরি করা হয়।

সেই সময়েও বোঝা যায়নি, যন্ত্রটি ঠিক কী কাজের জন্য নির্মিত হয়েছিল। বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা রাতদিন লেগে থাকেন যন্ত্রটির রহস্য উদ্ঘাটনের কাজে। অবশেষে ২০০৮ সালে বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্তে আসেন, যন্ত্রটি করিন্থে নির্মিত (World Fast Computer)।

প্রসঙ্গত প্রাচীন কালে করিন্থের উপনিবেশ ছিল সাইরাকিউজ এবং বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক আর্কিমিডিস ছিলেন সাইরাকিউজের লোক। অনুমান করা হতে থাকে যন্ত্রটির সঙ্গে আর্কিমিডিসের ঘরানার কোনও যোগাযোগ থাকা সম্ভব।

পরবর্তী কালে আরও গবেষণা চলতে থাকে এই যন্ত্র টিকে নিয়ে এবং ২০২০ সাল পর্যন্ত এই গবেষণা চলতে থাকে ২০২১-এ বিশেষজ্ঞরা জানান, অ্যান্টিকিথেরা থেকে প্রাপ্ত যন্ত্রটি আসলে একটি ‘অ্যানালগ কম্পিউটার’, যার কাজ ছিল ব্রহ্মাণ্ডের চরিত্র উদ্ঘাটন (World Fast Computer)।

২০০০ বছর আগে গ্রিকরা সৌরজগতের পাঁচটি মাত্র গ্রহের অস্তিত্ব সম্পর্কে জ্ঞাত ছিলেন। এই যন্ত্রে সেই পাঁচটি গ্রহের গতিবিধি নির্ণয়ের ব্যবস্থা ছিল। ২০২১ সালে যন্ত্রটির কিছু অংশের আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হয়

ইউনিভার্সিটি কলেজ অফ লণ্ডন এর গবেষকরা সেই অসাধ্যসাধনটি করে দেখান। বিভিন্ন গিয়ার-হুইল দ্বারা চালিত এই যন্ত্রে সূর্য, চাঁদ, বুধ, শুক্র, বৃহস্পতি, মঙ্গল ও শনি গ্রহের গতিপ্রকৃতি নির্ণয় করা যেত বলে তাঁরা জানান।

এবার প্রশ্নও হচ্ছে, কারা তৈরি করেছিলেন এমন একটি যন্ত্র? এই সব প্রশ্নের উত্তর অজানা থেকে গিয়েছে (World Fast Computer) । তবে, এই ২০২২ সালে দাঁড়িয়ে ‘অ্যান্টিকিথেরা মেকানিজম’-কে প্রযুক্তির ইতিহাসে প্রাচীনতম ‘কম্পিউটার’ বলতে দ্বিধা করছেন না বিজ্ঞানীরা।

প্রাচীকালে অনেক প্রকারের আশ্চর্য করা যন্ত্র তৈরি হয়েছিল যা আমাদের কাছে আজও অজানা। কিন্তু এটা বলাই বাহুল্য যে পুরাতন কালের বিজ্ঞান, সীমিত পরিধির মধ্যে খুবই উন্নত ছিল (World Fast Computer)। এই সম্পর্কে আপনার মতামত জানাতে হলে নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.